‘বাওয়াবা’ গাছ মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণসহ দৈনন্দিন জীবনের এক আশির্বাদ হিসেবে আভিভূত
এবিএম আতিকুর
রহমান
বাশার
ঃ
বাওয়াবা’ গাছ বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহৎ আকৃতির গাছ। এ বৃক্ষ ২ হাজার বছরেরও অধিক সময় বেঁচে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি এ প্রজাতির অনেক প্রাচীন গাছ মারা গেছে। বিজ্ঞানীরা এর জন্য জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।
এ গাছ হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ তথা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান বা আশ্রয় তৈরীতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। এ গাছ কর্মসংস্থানসহ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য নানা উপকরণ তৈরীতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর ফল, মূল, কান্ড এবং মূল দেহটি মানব কল্যানে উৎস্বর্গকৃত।
‘বাওবাবা’ গাছের আদী নিবাস আফ্রিকা, আরব এবং অস্ট্রেলিয়াতে। এটি আফ্রিকা সাভানাতে প্রচুর জন্মায়। ভারতের কিছু অংশে, অষ্ট্রেলিয়া, মাদাগাস্কারের অন্যতম প্রধান গাছ। এটি মরুভূমিতে বেশী জন্মায়। এই গাছের গুঁড়ি খুবই রসালো। একেকটি গুঁড়ি ১ লাখ ২০ হাজার লিটার পানি ধরতে পারে।
একহারা গড়নের গাছের কান্ডটি মাটি থেকে সোজা ঊর্ধ্বমুখী। ডালপালার বালাই নেই বললেই চলে। মাথায় ঝোপের মতো কয়েকটি ডাল ছাতার মতো সাজানো। দূর থেকে দেখলে কারও মনে হবে একটি গাছকে বুঝি কেউ উঠিয়ে শিকড় উপুড় করে পুঁতে দিয়েছে।
পাতাগুলি ভোজ্য, ট্রাঙ্কগুলি পানি সংরক্ষণ করতে পারে এবং ফল অতিশয় পুষ্টি সমৃদ্ধ হয়, যাকে বিশ্বের সবচেয়ে পুষ্টিঘন খাবারের তালিকায় রাখা হয় এবং কমলার চেয়েও বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এর ফল ১৮ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়। প্রমাণ সাইজের ফলগুলো থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত শাঁস, যা বেশ সুস্বাদু খাবার। টক-মিষ্টি স্বাদের বাওয়াব ফল দুগ্ধজাত খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বাওবাব ফুল বেশ বড় এবং দেখতে সাদা রঙের। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমূহ আফ্রিকাতে নারীরা শত শত বছর ধরে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক উৎস হিসাবে ব্যবহার করে আসছে।
এই পানি স্থানীয় মানুষ ও অন্যান্য প্রানীর পিপাসা মেটায়। এর বাঁকল থেকে বাদ্য যন্ত্রের তার, পানিনিরোধী ব্যাগ, ছাতা, অগ্নি নিরোধক কাপড় তৈরি হয়। আর প্রশস্ত গাছের কোটরে বা খোঁড়লে আদিবাসীরা বসবাস করতো। আর অস্ট্রেলিয়ার বাওবাবগুলো ব্যবহার হতো আরও বৈচিত্রময় কাজে। সেখানকার অধিবাসীরা কারাগার হিসেবে ব্যবহার করতো বাওবাবের প্রকান্ড খোঁড়ল। কোনো কোনো খোঁড়ল বা কোটরে ২০/২৫ জন বন্দিও রাখা যেত। এজন্য এদের নাম বাওবাবা প্রিজনট্রি। অস্ট্রেলিয়ার ইউন্ডহ্যাম অঞ্চলে দেখা মেলে এই বাওবাব প্রিজন ট্রির। এখন অবশ্য বন্দি রাখার বন্দোবস্ত নেই। বরং পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় এক জায়গা এটি। রীতিমতো সারাবিশ্ব থেকে মানুষ আসে এই গাছগুলো দেখতে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের সাভানুর নামক জায়গায় এমন তিনটি গাছের দেখা মেলে। ধারণা করা হয়, ভারতীয় বুশম্যানরা এখানে আস্তানা গেড়েছিল এককালে।
