দেবীদ্বারে ব্যবসায়ী মুছা আলী হত্যাকান্ডের আরো একজন আটক
প্রধান আসামী এখনো ধরা ছোঁয়ার বাহিরে
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার/
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মুক্তিপনের দাবী পরিশোধ করতে না পারায় খুন হওয়া কক্সবাজারের ব্যবসায়ি মুছা আলীর দুই ঘাতককে র্যাব-১১ এর সিপিসি-২ কুমিল্লার অভিযানে আটক হওয়ার পর এবার দেবীদ্বার থানা পুলিশের অভিযানে আটক হলেন বিকাশে মুক্তিপনের টাকা নেয়া মো. কামাল হোসেন।
রোববার দিবাগত ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) থোয়াই চামং চাক নয়ন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করেন।
সোমবার দুপুরে আটক কামাল হোসেনকে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।
আটক কামাল হোসেন উপজেলার নবিয়াবাদ গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আলফু মিয়ার ছেলে।
এর আগে গত শুক্রবার (২ ফেব্রæয়ারী) রাতে ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার বাগুর বাসস্ট্যান্ড ও কুমিল্লার বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. রফিকুল ইসলাম লিমন (৩০) ও সবুজ সরকার (২৭)কে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, গত ৩১ কক্সবাজারের ব্যবসায়ী মো. মুছা আলী (৪০) কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের তুলাগাও গ্রামে শশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রাতেই আসামীরা মোবাইল ফোনে ঢেকে নিয়ে তাকে অপহরণ করেন এবং মুক্তিপন হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করা হয় ভিকটিমের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের নিকট। ভিকটিমের স্ত্রী দাবীকৃত ১০ লক্ষ টাকার পরিবর্তে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা অপহরণকারীদের প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে অপহরণকারীরা দাবীকৃত অর্থ না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আহতের পায়ে, হাতে ও পিঠে ছুরি দিয়ে আঘাত করে দেবীদ্বার উপজেলা পশ্চিম বাগুর এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আহত মুছা আলীকে উদ্ধার করে বাগুর মেডিনোভা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার (৩৮) বাদী হয়ে ৪ জনকে দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মো. মুছা আলী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার নাজিরপাড়া গ্রামের হাজী মৃত মাজেদ আলীর ছেলে।
পরবর্তীতে ওই ঘটনায় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারে অভিযানে নামেন র্যাব। গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার একটি দল এবং দেবীদ্বার থানা পুলিশ।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নয়ন মিয়া জানান, মুছা আলী হত্যাকান্ডের ৩ অভিযুক্ত আটক হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত স্থানীয় বাগুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজের পুত্র সোহেল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।
.jpg)