দেবীদ্বারে
১৬
বছর
ধরে
জঙ্গলবাসী
মুজিবর
উদ্ধারের
পর
এবার
৮
দিন
বাঁশঝারের
খুপরিতে
মানবেতর
জীবনযানকারী
শিকলবন্দী
আগুনে
ক্ষত
ইউনুছকে
উদ্ধার
নির্জন বাঁশঝারের খুপরি থেকে উদ্ধার হওয়া শিকলবন্ধী ইউনুছ হাসপাতালে
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার,
পারিবারিক সম্পত্তির ভাগ থেকে বঞ্চিত হওয়া দেবীদ্বার উপজেলার মাশিকাড়া গ্রামের মুজিবুর রহমান টানা ১৬ বছর জঙ্গলের একটি নির্জন খুপরিতে বসবাস করার পর প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্ধার হয়ে এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওই আলোচিত ঘটনার রেষ না কাটতেই আবারো দেখা মিলল পারিবারিক রোষানলে একই উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের একটি নির্জন বাঁশঝারের খুপরিতে ৮ দিন মানবেতর অবস্থায় পড়ে থাকা শিকল বন্ধী ইউনুছ (৫৩) নামে এক মাষিক ভারসাম্যহীন ব্যাক্তির সন্ধান। তাকেও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারের লোকজন ইউনুছকে আগুনে পোড়া ক্ষতসহ নির্জন বাঁশঝারের ভেতরে একটি খুপরিতে ৮ দিন শিকলবন্ধী করে রাখেছেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার (২ মে) রাত সাড়ে ৮টায় তাকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এখন সেই আলোচিত মুজিবুর ও ইউনুছ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ বেডের ৫ ও ৭ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওই মর্মান্তিক ও অমানবিক দৃশ্যের অবতানা ঘটে শুক্রবার (২ জুন) কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৬ নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের লুতু ভ‚ঁইয়া কমপ্লেক্সের পাশে আলম মিয়ার বাড়ির নির্জন বাঁঝারের ভেতরে।
গত ২৬ মে ইউনুছের ঘরে আগুন লেগে পুড়ে গেলে স্বজনরা তাকে নির্জন ওই বাঁঝারের ভেতরে ৫ ফুট প্রশস্ত ও দৈর্ঘ এবং ৫ ফুট উচ্চতায় একটি টিনের ছাউনির একটি ছাপড়া বানিয়ে এক পাশে প্লাষ্টি বস্তার বেড়া ৩ পাশ খোলা এবং মশারী টানানো একটি খুপরিতে তাকে শিকলবন্ধী করে রাখেন। তার ডান হাতের আঙ্গুলে পঁচন ধরেছে, দু’হাতই ভাঙ্গা। পরনের কাপড়গুলো গত শীতে শরীরে জড়ানো, ময়লায় কাপড়ের রং পাল্টে গেছে। তিনি সেখানে অর্ধাহার, অনাহার এবং চিকিৎসাহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
হাসপাতালে ইউনুছ মিয়া জানান এখন তিনি ভালো আছেন, পাশের বেডে চিকিৎসাধীন মুজিবুর জানালেন তিনিও ভালো আছেন, তবে তারচেয়ে করুন ও মর্মান্তিক ইউনুছের অবস্থা বলে জানান।
সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে ইউনুছকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
এ ব্যাপারে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা কালের কন্ঠকে জানান, আপাতত মুজিবর ও ইউনুছকে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। সুস্থ্য হলে তাদের ভবিষ্যৎ জীবন-মান উন্নয়নে কার্যকরী ব্যবস্থা নেব।
