কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার ও মুরাদনগর সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সিএনজি চালক তার সিএনজি নিয়ে পালাতে যেয়ে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে সড়কেই উল্টে যেয়ে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় ট্রফিক পুলিশকে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোদ্ধ করে রাখে। এসময় সড়কের দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।
দূর্ঘটনায় কবলিত সিএনজিতে থাকা চালক, দুই নারী যাত্রী ও এক পুরুষ যাত্রীসহ ৪ জন আহত হন। মারাত্মক আহত পুরুষ যাত্রীকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ। নিহত যাত্রী মহিউদ্দিন(৩০) দেবীদ্বার পৌর এলাকার উত্তর ভিংলাবাড়ি গ্রামের আলমাস মিয়ার পুত্র এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলামের বড় ভাই।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৩ মে) বেলা পৌনে ১টায় মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকার ফরেস্ট অফিসের সামনে। নিহত মহিউদ্দিন পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, নিহত মহিউদ্দিন একজন সুটকী ব্যবসায়ি, সে বুধবার সকালে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা সদরে সূটকী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করে সিএনজি যোগে ফেরার পথে দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তিনি দুই বছরের এক কণ্যা সন্তানের জনক ছিলেন।
কোম্পানীগঞ্জ বাজার ষ্ট্যান্ড এর লাইন ম্যান আমির হোসেনসহ প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, হাইওয়ে সড়কের উপর ট্রাফিক ইনিস্পেক্টর তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অবৈধভাবে চলাচলকারী রজিষ্ট্রেশন বিহীন সিএনজি আটক অভিযানে নামেন। এসময় টাফিক পুলিশ ধাওয়া করে ৫/৬টি সিএনজি আটক করার সময় অন্যান্য সিএনজিগুলো হুরহুরি করে প্রাণ ভয়েয় পালাতে থাকে। এসময় দেবীদ্বার অভিমূখী একটি সিএনজি দ্রæত মোড় ঘুরিয়ে পালাতে যেয়ে সড়কের পাশে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে উল্টে পড়ে যায়। সিএনজিতে চালকসহ ২ নারী ও এক পুরুষ যাত্রী ছিলেন। সবাই আহত হন। মারাত্মক আহত পুরুষ যাত্রীকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
বিক্ষুব্ধ সিএনজি চালক ও জনতা ট্রাফিক ইনিস্পেক্টরসহ ২ জনকে ঘিরে ফেলে। এদিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার পাউন্নারপুল ষ্ট্যাশনে ট্রাফিক সার্জেন্টের নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে কোম্পানীগঞ্জের ঘটনার সংবাদে ট্রাফিক সার্জেন্টসহ ২ পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখার সময় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। দূর্ঘটনার সংবাদে মীরপুর হাইওয়ে পুলিশের একটি দল বেলা পৌনে ২টায় ঘটনাস্থলে আসেন।
ট্রাফিক ইনিস্পেক্টর তরিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, তিনি দূঘটনা বা অভিযান সম্পর্কে কিছুই জানেনা এবং ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। ট্রাফিক পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাতে যেয়ে সিএনজি উল্টে একজন নিহত বা আরো ৩ জন আহতের বিষয়টি সাংবাদিকের কাছ থেকেই শুনেছেন।
নিহত মহিউদ্দিনের বন্ধু সাইফুল জানান, হাইওয়ে সড়কে পুলিশের সামনেই অবৈধভাবে রেজিস্ট্রেশন বিহিন শত শত সিএনজি চলাচল করে। পুলিশের নিয়ম অনুযাযী প্রতিদিন ৫/৬টি সিএনজি আটক করে জরিমানা আদায় করতে হয়। সে কারনেই এ অভিযান পরিচালনা। সিএনজিগুলো ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা ও আটকের ভয়ে পালাতে যেয়ে দূর্ঘটনায় আমার চাচাতো ভাই প্রাণ হারায়। সাইফুল আরো জানান, তার চাচাতো ভাই হত্যার দায়ে ট্রফিক পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন।
বেলা পৌনে ২টায় মীরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন হাইওয়ে সড়কে দূর্ঘটনায় একজন নিহত ও ৩ জন আহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দেবীদ্বারের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন বলেও জানান।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমলকৃষ্ণ ধর জানান, মূল ঘটনাটি মুরাদনগর এলাকার এ ব্যপারে হাইওয়ে পুলিশ ভালো বলতে পাবেন।
বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে নিহতের স্বজনরা নিহতের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায় এবং থানায় কোন মামলা হয়নি।
%20PIC;-%20ROAD%20ACCIDENT-03.05.2023%20(4).jpg)
%20PIC;-%20ROAD%20ACCIDENT-03.05.2023.jpg)
%20PIC;-%20ROAD%20ACCIDENT-03.05.2023%20(1).jpg)
%20PIC;-%20ROAD%20ACCIDENT-03.05.2023%20(2).jpg)