জেলা সভাপতির নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা কার্যনির্বাহী কমিটির সভা
কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কর্তৃক জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলা সাধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল চৌধূরীসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার অনুপস্থিতিতেই সম্মেলনের প্রায় ৮ মাস পর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শনিবার সকাল ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের রাজনৈতিক কার্যালয় ‘রোশন ভিলা’য় ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম শফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব রোশন আলী মাস্টার।
সভায় জেলা আ’লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিনকে অবাঞ্চিত করার ঘোষণার প্রস্তাব করেছেন উপজেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন মানিক। তিনি বলেন, জেলা সভাপতির একক স্বাক্ষরে কমিটি স্থগিত এবং দলের কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগে অগঠনতান্ত্রিকভাবে উপজেলা সভাপতিকে কারন দর্শানোর নোটিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দলেল ভাব মূর্তী নষ্ট করছেন জেলা সভাপতি।
এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন কর্তৃক উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি স্থগিত এবং স্থগিত কমিটি কর্তৃক দলীয় ব্যানারে কর্মসূচী পালন ও শনিবার (৬ মে) ডাকা কার্যনির্বাহী কমিটির সভা স্থগিত রাখাসহ এসকল কর্মকান্ড পরিচালনাকে দলীয় শৃংখলা বিরোধী আখ্যা দিয়ে উপজেলা সভাপতি একেএম সফিউদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবেনা তার কারন দর্শানোর জন্য ৭ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হলেও ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে যথা সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এব্যপারে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি একেএম সফিউদ্দিন বলেন, গঠনতন্ত্র এবং সংগঠনের নিয়ম মেনেই কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করেছি। আমরা তো বছরের পর বছর কমিটির কার্যক্রম গুটিয়ে বসে থাকতে পারিনা। সভায় ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫১ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সাধারন সম্পাদককে মিটিং আহবান করতে বললে তিনি সভা আহবান করেননি।
অপরদিকে উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল চৌধূরী ক্ষোভের সাথে বলেন, উপজেলা কার্যকরি কমিটির সভা ডাকবেন সাধারন সম্পাদক, এটা সভাপতির কাজ না। জেলা কমিটির সভাপতির নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক যে সভা ডেকেছেন এবং ওই সভায় জেলা সভাপতি ম. রুহুল আমিনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবী তুলে শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং সংগঠনের শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ডের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
এদিকে কার্যকরি কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা কুমিল্লা(উঃ) জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টার বলেন, জেলা কমিটির অনুমোদীত কমিটি দলের নিয়ম মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একটি মহল এ কমিটিকে নিস্ক্রীয় করে রাখার পায়তারায় ষড়যন্ত্র করে আসছে।
কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন বলেন, দেবীদ্বার উপজেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা বা সংগঠনের শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে উপজেলা সভাপতিকে কারন দর্শানো নোটিশ করা এবং ৬ মে শনিবারে উপজেলা সভাপতি কর্তৃক কার্যকরি কমিটির আহবানকৃত সভা স্থগিত রাখার বিষয়ে যে নোটিশ করেছি তা সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত নয়, যা করেছি সবই কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় করেছি। দলের যে কারোর কাছে আমি পছন্দের না হলে আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতেই পারে, তবে আমার নোটিশ অমান্য করে উপজেলা কার্যকরি কমিটির সভা করার বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানাব। উপজেলা কমিটি আমার ও জেলা সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষরে অনুমোদন দিয়েছি তবে জেলা কমিটির কার্যকরি কমিটির সভায় অনুমোদনের পরই তা বৈধ হবে। এর আগে এ কমিটি বৈধ নয় কিন্তু তারা স্থগিত কমিটিকে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক আ’লীগ নেতা ক্ষোভের সাথে জানান, দলের আভ্যন্তরিন কোন্দলে প্রায় ২৬ বছর পর কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দর উপস্থিতিতে একেএম সফিউদ্দিনকে সভাপতি, মোস্তফা কামাল চৌধূরীকে সাধারন সম্পাদক, একেএম মনিরুজ্জামান মাষ্টারকে সহ-সভাপতি, অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির ও এজাজ মাহমুদকে যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকারকে সদস্য করে ৬ সদস্যের নাম উল্লেখ করে আংশিক কমিটি ঘোষনার মধ্যে দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এবং কুমিল্লা (উঃ) জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টারের দ্ব›েদ্বর কারনে পূর্ণঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।
কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে পরবর্তীতে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ৭ সস্যের সমন্বয় কমিটি ঘোষণা করে দেন। সমন্বয় কমিটির সদস্যরা হলেন,- কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ রোশন আলী মাষ্টার, স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, বিদায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন সরকার, সাধারন সম্পাদক একেএম মনিরুজ্জামান মাষ্টার, বর্তমান কমিটির সভাপতি একেএম সফিউদ্দিন এবং সাধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল চৌধূরী। ওই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ৪৫ দিনের মধ্যে ঘোষণার কথা থাকলেও আভ্যন্তরীন কোন্দলে তা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে প্রায় সাড়ে ৪ মাস পর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী জেলা সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষরে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা অনুমোদন করা হয়।
ওই ঘোষিত ৭১ সদস্যের কমিটির মধ্যে সম্মেলনে ঘোষিত ৬ সদস্য এবং বাকী আরো ৬৫ জনের নাম সমন্বয় করে করার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক ৭ সদস্য সমন্বয় কমিটি করে দেন। তাদের সাথে সমšয়^ না করে জেলা সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা সভাপতির নিজস্ব পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, উপজেল সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মাষ্টার, সাধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল চৌধূরী, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন সরকার কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির বরাবরে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি’র নির্দেশে ২৬ জানুয়ারী জলা সভাপতি ম. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত কমিটি স্থগিত এবং উক্ত কমিটির ব্যানারে কোন ধরনের দলীয় বা অন্যান্য কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে সম্মেলনে ঘোষিত ৬ সদস্যের উপর এ নিষেধাজ্ঞা থাকবেনা।
কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ পাখি, মোছলে উদ্দিন মাস্টার, যুগ্ম সম্পাদক এজাজ মাহমুদ, ভিপি মোঃ ওমর ফারক, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখারুল আলম তুষার, মোস্তাফিজুর রহমান সরকার, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক শেখ ফারুক আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাজী মোছলেহ উদ্দিন মানিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন প্রমুখ।
%20PIC;-A.LIG%20SOVA-06.05.2023%20(3).jpg)
%20PIC;-A.LIG%20SOVA-06.05.2023%20(1).jpg)
%20PIC;-A.LIG%20SOVA-06.05.2023%20(2).jpg)