আনন্দ টিভি ও কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক ‘কুমিল্লার ডাক’ পত্রিকার সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈমের প্রথম হত্যাবার্ষিকী ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের গুলিতে ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল বুধবার রাতে নিহত হন তিনি।
এদিকে সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈমের হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলার মুরাদনগর ও বুড়িচং উপজেলা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। একইভাবে কুমিল্লা মফস্বল সাংবাদিক ফোরামও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া মহিউদ্দিন নাঈমের পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়া কর্মসূচি পালন করবে।
বুধবার দুপুরে এ বিষয়ে মহিউদ্দিনে মা নাজমা বেগম বলেন, ‘আজ আমার ছেলে নেই একবছর পূর্ন হলো। মৃত্যুর আগে আমি আমার একমাত্র ছেলে হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে পারব কিনা জানি না। তবে এখন আমার একটাই ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে কিছু কথা বলার। আমার আবেগ ও কষ্টটা ওনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে বলতে চাই। কারণ তিনিও একজন মা। একজন মা বোঝেন সন্তান হারানোর বেদনা। তিনি বলেন, এখনো মহিউদ্দিনের পুরনো জামা-কাপড়ে যেন তার গন্ধ খুঁজে পাই। গভীর রাতে বাসার বাইরে আওয়াজ হলেই যেন মনে হয় আমার মহিউদ্দিন ফিরে এসেছে।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল (বুধবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তে সংলগ্ন রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল এলাকার হায়দ্রাবাদনগর গ্রামে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় মাদক কারবারিরা। পরে তাকে স্থানীয় দুই যুবক বিজিবির সহায়তায় উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামে।
পরে ১৪ এপ্রিল বিকেলে এ ঘটনায় নিহতের মা নাজমা আক্তার বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের রাজুকে প্রধান আসামি করে মোট তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
১৬ এপ্রিল রাতে কুমিল্লার গোলাবাড়ি সীমান্তে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন মামলার প্রধান আসামি রাজু।
হত্যা মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয় ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর।
সেসময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোবারক হোসেন। আসামি ছিলেন ৪ জন।
বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই আসামিদের মধ্যে একজন ক্রসফায়ারে মারা যায়। পরে ৪ আসামি নিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
