Sunday, 19 February 2023

দেবীদ্বার থেকে অপহরণের ২দিন পর হবিগঞ্জ থেকে অপহৃত শিশু উদ্ধার; অপহরণকারী চক্রের ২ সদস্য স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার


গৃহস্তের ঘরে কাজের লোক সেজে পরিকল্পিতভাবে এক শিশু অপহরণপূর্বক মুক্তিপন দাবী করেছে একটি অপহরণকারীচক্র। মুক্তিপনের আংশিক টাকা প্রদানের বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশের একটি দল ঢাকা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় ২ দিনের শ^াসরুদ্ধকর অভিযানে গাজীপুরের টঙ্গী এলাা থেকে অপহরণকারী দলের দুই সদস্য মোঃ কাসেম মিয়া(৪৫) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সামিয়া বেগম(৩০)কে আটক করে। তাদের স্বীকরোক্তিতে হবিগঞ্জ জেলা থেকে অপহৃত ভিক্টিম আব্দুল্লাহ আল মামুন(৬)কে উদ্ধার করেছে। 


অপহরণের ঘটনাটি ঘটে দেবীদ্বার উপজেলার ৯নং গুনাইঘর (উঃ) ইউনিয়নের ছেপাড়া গ্রামের ইদিল সরকার বাড়িতে। অপহৃত শিশু আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই বাড়ির আব্দুস সামাদ(৬৩)’র পঞ্চম পুত্র।

রেবাবার দুপুরে আটক মোঃ কাসেম মিয়া ও তার স্ত্রী সামিয়া আক্তার এবং উদ্ধার হওয়া শিশু আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কুমিল্লা ৪ নং আমলী আদালতে হাজির করা হলে, আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ওমর ফারুক ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্ধি লিপিবদ্ধ করেন। আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট আসামীরা ভিক্টিম আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মুক্তিপন আদায় করার জন্য অপহরণের দায় স্বীকার করেন এবং ভিক্টিম আব্দুল্লাহ আল মামুন অপহরণের ঘটনার বর্ণনা দেন। 


ওই ঘটনায় ভিক্টিম আব্দুল্লাহ আল মামুন(৬)’র পিতা আব্দুস সামাদ(৬৩) বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় রোববার (১৯ ফেব্রæয়ারী) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২৩০)’র ৭/৮/৩০ ধারায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৬।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন,- হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার পিটুয়ারকান্দি গ্রামের মৃতঃ আব্দুর রহিমের পুত্র আবুল বাশার(৩৮), আবুল বাশারের স্ত্রী মোসাঃ ফারজানা আক্তার(৩০), মোসাঃ ফারজানা আক্তারের বড় বোন ও মৃত: আব্দুর রহিমের মেয়ে আর্জিনা বেগম(৩২), কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার প্রজারকান্দি গ্রামের মৃতঃ ওয়াজ উদ্দিনের পুত্র মোঃ কাসেম মিয়া(৪৫) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সামিয়া বেগম(৩০)। কাসেম মিয়া ও সামিয়া আক্তার সম্পর্কে আবুল বাশারের ভগ্নিপতি ও বোন।

মামলার বাদী আব্দুস সামাদ জানান, প্রায় ১০/১২ দিন পূর্বে আবুল বাশার নামে একজন দিনমজুরকে তার বাড়িতে কৃষিকাজ করার জন্য রাখা হয়। দিনমজুর আবুল বাশার এ কয়েকদিনের মধ্যেই তার পরিবারের সদস্যদের আপন হয়ে উঠে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রæয়ারী) বিকেল ৫টায় থেকে তার সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুনকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সাথে দিনমজুর আবুল বাশারও নিখোঁজ হয়ে যায়। সারা রাত খুঁজে না পেয়ে পরদিন শুক্রবার (১৭ ফেব্রæয়ারী) ভিক্টিমের পিতা দেবীদ্বার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। নিখোঁজ ডায়েরী নং- ৮৫৭।

নিখোঁজ ডায়েরী করার পর ওইদিনই অপহরণকারী আবুল বাশারের বোন সামিয়া বেগম ও ভগ্নিপতি কাসেম মিয়া তাদের ০১৯৭৭১৬১৮৩০ ফোন নম্বর থেকে অপহৃত শিশুর পিতা আব্দুস সামাদ’র ০১৭৪৬৮৩৪৫২৭ নম্বরের ফোনে অপহৃত শিশুটি আব্দুল্লাহ আল মামুন অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে, তাকে নিতে হলে মুক্তিপন বাবত ওই নম্বরে বিকাশে ২০হাজার টাকা পাঠাতে হবে। ভিক্টিম শিশুর পিতার কাছে তাৎক্ষনিক ২০ হাজার টাকা না থাকায় ওই নম্বরে ৩ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান এবং বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহৃত করেন।

ওই সংবাদের পর দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) নিশান চন্দ্র বল ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান একদল পুলিশ নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ট্যাকিং-এ সিডিআর সংগহ করে অভিযান চালান। তারা গাজীপুর টঙ্গী থানা পুলিশের সহযোগীতায় টঙ্গী পূর্ব থানার পাগারবটতলা গ্রামের রোকন মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে সামিয়া ও কাসেম মিয়াকে আটক করেন। এসময় প্রধান আসামী আবুল বাশার অপহৃত শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আটক সামিয়া ও কাসেমকে নিয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকয় আবুল বাশারের শ^শুরের বাসায় তল্লাসী চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তাদের নিয়ে হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগীতায় যৌথ বøক রেইড দিয়ে বদলপুর ইউনিয়নের ফিরিজপুর বাজারে অভিযান চালান। এসময় ভিক্টিম শিশুটি নিয়ে আত্মগোপনে থাকা প্রধান অভিযুক্ত আবুল বাশার, তার স্ত্রী ফার্জানা বেগম(৩০) ও তার স্ত্রীর বড় বোন আর্জিনা বেগম(৩২) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পুলিম ভিকটিম আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ফিরিজপুর বাজারের মোঃ হেলিম মিয়ার চাউলের আরৎ এর সামনে থেকে উদ্ধার করে।    

দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমলকৃষ্ণ ধর রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভিক্টিমের বাবা থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করার পর থেকেই পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। অপহরণকারী দলের ২সদস্যসহ ভিক্টিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রধান আসামীসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। 



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.