অধ্যাপক মোজাফ্ফর
আহমেদ’র
চতুর্থ
মৃত্যুবার্ষিকীর
স্মরণ
সভা
বঙ্গবন্ধু-তাজউদ্দিন-মোজাফ্ফর-মনিসিংহকে বাদদিয়ে ‘স্বাধীনতা’কল্পনাহীন
এবিএম আতিকুর রহমান
বাশার
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তৈরী করতে হবে। ইতিহাস বিকৃতি করে আগামী প্রজন্মকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করলে জাতি ক্ষমা করবেনা। মহান স্বাধীনতা অর্জনে শুধু একক কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, গোত্র বা দলের কৃতিত্ব নয়।
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ’র চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভার প্রধান অতিথি ন্যাপ কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ফারুক ওই বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও নির্দেশিত আহবান, তাজউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক মুজিবনগর সরকার গঠন ও পরিচালনা, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ ও কমরেড মনিসিংহে’র আন্তর্জাতিক সমর্থন ও যুদ্ধসরঞ্জামাদী আদায় এবং মুক্তিযোদ্ধা- বীরাঙ্গনা ও মুক্তিকামী জনতার রক্ত, শ্রম, মেধা, ত্যাগের মধ্যদিয়ে মাত্র সাড়ে ৯ মাসে মহান স্বাধীনতা অর্জনের কৃতিত্বে কারোর অবদানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
বুধবার দুপুরে ন্যাপ উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এলাহাবাদ আদর্শ কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদের স্মরণ সভায়,- উপজেলা সভাপতি কেন্দ্রীয় ন্যাপ’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও দেবীদ্বার উপজেলা সভাপতি শ্রী অনিল চক্রবর্তী’র সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, ন্যাপ কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট আব্দুর রহমান, কাজী সিদ্দিকুর রহমান, কুমিল্লা জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল জলিল, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি কুমিল্লা জেলার সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, আওয়ামীলীগ কুমিল্লা (উঃ) জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, এলাহাবাদ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এ. কে. এম জহিরুল ইসলাম সরকার, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল।
এছাড়াও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ন্যাপ সহ-সভাপতি মোসলে উদ্দিন মিছির, সিরাজ মেম্বার, সরাফত উল্লাহ, প্রভাষক জাকির হোসেন, পৌর ন্যাপ'র সভাপতি মনিরুল ইসলাম, শিক্ষিকা নাজমা আক্তার, উপজেলা ন্যাপ'র মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার রীমা প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে মোজাফফর আহমেদের জীবনের উপর ৬মিনিটের একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং ওনার রোহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদে ‘চেতনায় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ’র কার্যালয়ের সামনে উপমহাদেশের বাম রাজনীতির পুরোধা, ভাষা সৈনিক, সাবেক সাংসদ, প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ’র কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, ন্যাপ কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা সিপিবি জেলা ও উপজেলা, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব, আমরা মুক্তিযুদ্ধার সন্তান, শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন, এলাহাবাদ মহাবিদ্যালয় ও এলাহাবাদ উচ্চবিদ্যালয় সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
বক্তারা বলেন, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে মুসলিম লীগের শিক্ষামন্ত্রীকে হারিয়ে রাজনীতির পাদপ্রদীপে চলে আসেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে আবারো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। মোজাফ্ফর আহমেদের রাজনীতির হাতে খড়ি ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত ভারতে নিষিদ্ধ বাম ধারার ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ৫ শের দশক থেকে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন, ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কমিউিনিস্ট পার্টির মেম্বার ছিলেন। ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছেড়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। সে বছর ন্যাপের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের আইনসভায় পূর্ব বাংলার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। পরের বছর আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখলের পর মোজাফফর আহমদের নামে হুলিয়া জারি হয়। তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করে পাকিস্তানের সামরিক সরকার।
২০১৫ সালে সরকার কর্তৃক তাকে ‘স্বাধীনতা পদক’ দিলে তা তিনি সম্মানের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তিনি বলেন,- দেশ স্বাধীন করেছি পদকের জন্য নয়, ‘রাজনীতির অর্থ দেশসেবা, মানুষের সেবা। পদ বা পদবীর জন্য কখনও রাজনীতি করিনি। শেখ মুজিব আমাকে অনেক কিছু বানানোর চেষ্টা করেছিলেন, আমি হইনি। আমি মহাত্মা গান্ধী, মাওলানা ভাসানীর অনুসারী। তিনি বলেছিলেন, ‘পদক দিলে বা নিলেই সম্মানিত হয়, এ দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি বিশ্বাসী নই। দেশপ্রেম ও মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি, কোনো পদক বা পদবি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেনি। সত্যিকার অর্থে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তারা কেউই কোনো প্রাপ্তির আশায় করেনি।”
উল্লেখ্য, উপমহাদেশের বাম প্রগতিশীল আন্দোলনের পুরুধা ‘কুড়ের ঘর’র ন্যাপ মোজাফফর’ খ্যাত এ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালের এই দিনে ৯৭ বছর বয়সে রাজধানী ঢাকার এ্যাপলোালে তিনি মারা যান।
%20PIC;-%20PROF%20MOZAFFOR-23.08.2023%20(1).jpg)





