অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী ২৩ আগস্ট
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার:
উপমহাদেশে প্রগতিশীল রাজনীতিতে আলো ছড়ানো অনন্য ব্যক্তিত্ব, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর বিপ্লবী সরকারের উপদেষ্টা, ১৯৭১-এ ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’র সাবেক সভাপতি প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের আজ (২৩ আগস্ট বুধবার) চতুর্থতম মৃত্যুবার্ষিকী।
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে মুসলিম লীগের শিক্ষামন্ত্রীকে হারিয়ে রাজনীতির পাদপ্রদীপে চলে আসেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে আবারো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছেড়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। সে বছর ন্যাপের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের আইনসভায় পূর্ব বাংলার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। পরের বছর আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখলের পর মোজাফফর আহমদের নামে হুলিয়া জারি হয়। তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করে পাকিস্তানের সামরিক সরকার।
২০১৫ সালে সরকার কর্তৃক তাকে ‘স্বাধীনতা পদক’ দিলে তা তিনি সম্মানের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তিনি বলেন,- দেশ স্বাধীন করেছি পদকের জন্য নয়, ‘রাজনীতির অর্থ দেশসেবা, মানুষের সেবা। পদ বা পদবীর জন্য কখনও রাজনীতি করিনি। শেখ মুজিব আমাকে অনেক কিছু বানানোর চেষ্টা করেছিলেন, আমি হইনি। আমি মহাত্মা গান্ধী, মাওলানা ভাসানীর অনুসারী। তিনি বলেছিলেন, ‘পদক দিলে বা নিলেই সম্মানিত হয়, এ দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি বিশ্বাসী নই। দেশপ্রেম ও মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি, কোনো পদক বা পদবি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেনি। সত্যিকার অর্থে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তারা কেউই কোনো প্রাপ্তির আশায় করেনি।”
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও দেবীদ্বারসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য দল বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে দেবীদ্বার এলাহাবাদ নিজ গ্রামের বাড়ির ‘তেনায় মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’র কার্যালয় সংলগ্ন প্রয়াত নেতার সমাধিস্থলে পূষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে ন্যাপ ও সিপিবি’র কেন্দ্রীয়, জেলা উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশে সুস্থধারার রাজনীতির অন্যতম পথিকৃৎ, উপমহাদেশের বাম প্রগতিশীল আন্দোলনের পুরুধা ‘কুড়ের ঘর’র ন্যাপ মোজাফফর' খ্যাত এ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালের এই দিনে ৯৭ বছর বয়সে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।
%20PIC;-%20PROF%20MOZAFFAR%20AHMED-%2023.08.2023.jpg)