কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় গত বুধবার ওই বিদ্যালয়ে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার অভিযানের সময় পুলিশ 'আত্মরক্ষার্থে' ৩০০ রাউন্ড শটগানের সিসা ও রাবার বুলেটসহ একাধিক গ্যাসগান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।
সেখানে গতকালের অভিযানের পর মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ও স্থানীয় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুক্তার আহমেদ মলি বাদী হয়ে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।
এজাহারে বলা হয়, পুলিশ ওই এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এসব বুলেট তারা ব্যবহার করে।
এতে বলা হয়, বুধবার পুলিশ ওই বিদ্যালয় এলাকা থেকে বিদ্যালয়ের প্রথান শিক্ষকসহ আরো ১০ জনকে আটক করে।
ওসময় বিক্ষুব্ধরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেলসহ ককটেল নিক্ষেপ করে।
পরে কুমিল্লা থেকে আসা পুলিশের অতিরিক্ত টিম সম্মিলিতভাবে স্কুলের ভেতর প্রবেশ করে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জনকে আটক করে।
বুধবার বিকেলে হতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও স্থানীয়দের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দেবীদ্বারের মাশিকাড়া এলাকা।
এসম এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সাত পুলিশসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
দেবীদ্বার থানায় ভ‚ক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ও পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা ২ মামলায় জনের ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা দুইশত এগারো জনকে আসামি করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন আটককৃতরা হলেন, লুৎফর কবির ভ‚ইয়া, শাহপরান, জাহাঙ্গীর আলম, মনিরুজ্জামান ভ‚ইয়া ওরফে জামান ডাক্তার, আলী আশ্রাফ, মো. ইউনুস, আবদুল কাদের, মো. ছবুর, মো. জিয়াউর রহমান, মো. ওয়াজ কুরুনী
এছাড়া ছাত্রীর বাবা শফি উল্লাহর দায়ের করা মামলায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকতল হোসেনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
এদিকে, পুলিশ ওই শিক্ষকসহ ১১জনকে কুমিল্লা আদালতে আদালতে হাজির করলেও কোন আসামীর জন্য রিমান্ড আবেদন করেনাই বলে নিশ্চিত করেছেন দেবীদ্বার থানার ওসি।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সরোজমিনে ঘটনাস্থল মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাজী মোঃ বাহালুল হক, সহকারি শিক্ষক- শিক্ষিকাসহ পরিচালনা সদস্যরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থী শুণ্য পুরো বিদ্যালয়। পাশ^বর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষক থাকলেও হাতেগুনা কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের দরজা-জানালা ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়।
মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাজী মো. বাহালুল হক জানান, আজকে বিদ্যালয় খোলা থাকলেও গতকালের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা কেই বিদ্যালয়ে আসে নাই।
.jpg)
%20(2).jpg)