কুমিল্লার চান্দিনায় এক ণারীর কাছে পাওনা টাকা আদায় করতে তার কিশোরী মেয়েকে ধরে নিয়ে ঘরের ভেতরে দিনভর আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।
রোববার চান্দিনা উপজেলার নুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার ১১ বছর বয়সী সানজিদা আক্তার নুরপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন ও রীনা আক্তারের মেয়ে।
নির্যাতনে শিকার কিশোরী সানজিদার বড় ভাই শাহাদাত হোসেন জানান, আমার মা রীনা আক্তার প্রায় ২ বছর ১১ মাস আগে আমাদের একই গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের কাছ থেকে বাৎসরিক ৩০হাজার টাকা সুদে নগদ ৭০হাজার টাকা এনে ২ বছরের জন্য অগ্রিম ৬০হাজার টাকা প্রদান করে। আমার মা গত ৮ মার্চ সুদকারবারী ফাতেমা বেগমকে তার বাড়িতে যেয়ে চলতি বছরের সুদের টাকাসহ মূল টাকা আগামী কোরবানীর ঈদের পরে দিব বলে জানালে এতে সুদকারবারী রাজী না হয়ে কোরবানির ঈদের আগেই টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। আমার মা তাতে রাজী না হওয়ায় আজ সকাল অনুমান ৮টার সময় আমার ছোট বোন সানজিদা আক্তার (১১)কে আমার নানার বাড়ী ফতেহপুর যাওয়ার পথে একটি বসত ঘরে আটক করে রাখে।
খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার সানজিদার পরিবারের সদস্যরা ফাতেমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে কিশোরীকে ছেড়ে দিতে বললে ফাতেমা বেগম পাওনা টাকা পরিশোধ করতে বলেন। এরপর তারা সকালেই ঘটনাটি জরুরী সেবা ৯৯৯ জানানোর পরও কোন প্রতিকার না পেয়ে পরে দুপুরে চান্দিনা থানায় যেয়ে পুলিশকে জানালে পুলিশ লিখিত অভিযোগ নেয়ার পর বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় ওই কিশোরেীর স্বজনরা।
এ ঘটনায় ওই কিশোরীর ভাই শাহাদাত হোসেন রোববার দুপুরে চান্দিনা থানায় একটি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. সাহাবুদ্দীন খাঁন জানান, কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাকে উদ্ধারের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
