Thursday, 17 November 2022

দেবীদ্বারে কুকুরের কামড়ে ইউপি মেম্বারসহ আহত ৩০, হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট



কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ, ধলাহাস ও মরিচাকান্দা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে সাবেক ইউপি সদস্য, শিশু-বৃদ্ধ, নারীসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ফতেহাবাদ, ধলাহাস ও মরিচাকান্দা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ২টি পাগলা কুকুর এলোপাথারি লোকজনকে কামড়াতে থাকে। কুকুরের কামড়ে নারী-শিশু ও পথচারী আহত হতে থাকলে স্থানীয়রা একটি কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেললেও অপর কুকুরটিকে নাগালে পায়নি। এ সময় আহত হন ধলাহাস গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আলী হোসেন। একই গ্রামের জুলহাসের ছেলে মো. শাহিন, অলিউল্লাহর স্ত্রী তাহেরা বেগম, মৃত দুধ মিয়ার ছেলে জহিরুল ইসলাম, আব্দুর রহমানের স্ত্রী সাহেরা বেগম, আবুল হোসেনের মেয়ে সামিয়া আক্তার, হুমায়নের মেয়ে খাদিজা আক্তার, মনু মিয়ার ছেলে মো. তৌফিক, রহিম উদ্দিনের ছেলে মো. বশির উদ্দীন, আব্দুর রহিমের ছেলে মনিরুল ইসলাম, মরিচাকান্দা গ্রামের জুয়েলের স্ত্রী কলি আক্তার, আব্দুর রহমানের স্ত্রী শাহেরা বেগম, আবুল হোসেনের স্ত্রী পেয়ারা বেগম, মো. ফারুকের মেয়ে ফারজানা আক্তার, পথচারী পরমতলা গ্রামের মো. শরিফের মেয়ে সুরাইয়া ও রহিমা আক্তারসহ অনেকে।

এদিকে আহতদের চিকিৎসায় র‌্যাবিক্স-ভিসি দেওয়া হলেও মল ভ্যাকসিন র‌্যাবিক্স আইজি সরবরাহ না থাকায় দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে ভ্যাকসিন র‌্যাবিক্স আইজি সরবরাহ না থাকায় আক্রান্তরা স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে তা সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিয়েছেন।

দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমিল্লা সদর হাসপাতাল সত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৩০ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্ত ৩০ জনের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, নারী ও শ্রমজীবী।

গত ১৯ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে জলাতঙ্ক রোধে ৩ হাজার ৫শত কুকুরকে ভ্যাসিনের আওতায় থাকলেও প্রায় ১ হাজার ৭শত কুকুরকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়। মানুষ কামড়ানো ২ টি কুকুর ব্যাকসিনের আওতায় ছিলনা বলে স্থানীয়রা জানান। কারন কুকুরের গায়ে লাল রং ছিলনা।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, হাসপাতালে র‌্যাবিক্স-ভিসি ভ্যাকসিন সরবরাহ থাকলেও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইজি ভ্যাকসিনের সংকট থাকায় আহতদের বাইরের দোকান থেকে তা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক রোগী বাইরের দোকানে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় ইনসেপ্টা ফার্মার বিক্রয় প্রতিনিধিকে আমরাও ফোন করে দেবীদ্বারে জরুরি ভিত্তিতে আইজি ভ্যাক্সিন সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।




শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.