বাংলাদেশ থেকে ভারতে হাইকিং অভিযান পরিচালনাকারী বাংলাদেশী হাইকার সাইফুল ইসলাম শান্ত বর্তমানে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে অবস্থান করছে। গত গত ৭ অক্টোবর সাইফুল ইসলাম শান্ত ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবন থেকে এই হাইকিং অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত শান্ত ২৯ দিনে এক হাজর ৫ কিলো মিটারের বেশি হাইকিং করেছে বলে জানাগেছে।
বাংলাদেশী হিসেবে শান্তই প্রথম বাংলাদেশী যে প্রতিবেশী দুই দেশে হাইকিং অভিযান করছে। এর আগে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) সদস্য পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল কলকাতা থেকে ১১ দিনে হাইকিং করে ঢাকা পৌছায়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে হেঁটে শাহজাদা আরেফীন জয় শিলিগুড়ি গিয়েছিলো। তবে সেটি কোন অভিযানের অংশ ছিল না। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে সাইফুল ইসলাম শান্তই একমাত্র বাংলাদেশ থেকে হাইকিং অভিযান করছে এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এই অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
এর আগে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্জার’-এর সহায়তায় এবং ‘হাইকার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর তত্ত্বাবধানে টানা ৭৫ দিন হেঁটে হেঁটে ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন এথলেট সাইফুল ইসলাম শান্ত। ওই ৭৫ দিনের মধ্যে শান্ত বিশ্রাম নেন মাত্র ৪ দিন।
শুক্রবার দুপুর ভারতের পশিচম বঙ্গের রায়গঞ্জ থেকে মোবাইল ফোনে অ্যাথলেট সাইফুল ইসলাম শান্ত বলেন, এই পদযাত্রার ৪২তম দিনের মধ্যে ৪ দিন বিশ্রাম ও ভারতে হাটার অনুমতি নিতে সময় লেগেছে ৯দিন এর মধ্যে হেটেছি ২৯ দিন। আর এ ২৯ দিনে অতিবাহিত করেছি ১০০৫ কিলোমিটারের পথ।
৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করেছি এবং গন্তব্য ইনশাল্লাহ দার্জিলিং পর্যন্ত।
এ পর্যন্ত ঢাকা থেকে মাওয়া- মানিকগঞ্জ- গোপালগঞ্জ- নড়াইল- যশোর- বেনাপোল-পেট্রোপোল- কলকাতা- দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা- হাওড়া- হুগলী- বর্ধমান- কাটোয়া- নদিয়া (পলাসী)- মুর্শিদাবাদ- মালদা- উত্তর দিনাজপুর ও রায়গঞ্জ পৌরসভা পর্যন্ত হাটা সম্পন্ন করেছি।
আমার গন্তব্যের লক্ষ্য দার্জিলিং পর্যন্ত যা প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার হবে।
জানাযায়, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে যাত্রা শুরু করেন শান্ত। ৭৫ দিন পর শেষ গন্তব্যস্থল কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে ৬৪ জেলায় প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার পথ শেষ করেছে সে।
‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’-এর প্রধান নির্বাহী অফিসার লিপটন সরকার বলেন, আমি নিজেও ১৮ বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছি। শান্ত আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো। অ্যাথলেট হিসেবে তাকে যতটুকু সহযোগিতা করা প্রয়োজন সবটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি, আগামী দিনেও ভালো কিছু করবে শান্ত। লিপটন সরকার আরও বলেন, মানুষের কিছু ভালো নেশা রয়েছে আবার কিছু খারাপ নেশাও আছে। তারমধ্যে এ ধরনের কার্যক্রম মানুষকে মাদক বা খারাপ নেশা থেকে দূরে রাখে। তাই দেশব্যাপী এসব কার্যক্রমেমাধ্যমে আমরা মানুষের ভালো নেশাগুলো ছড়িয়ে দিতে চাই।
অ্যাথলেট সাইফুল ইসলাম শান্ত দেশের বৃহৎ রানিং গ্রুপগুলোর সক্রিয় সদস্য এবং কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় ‘দেবীদ্বার রানার্স’ নামে ২ হাজার সদস্যের একটি রানিং গ্রুপ পরিচালনা করে আসছেন। একজন নিয়মিত অ্যাথলেট হিসেবে তিনি ভ্রমণ, হাঁটাহাঁটি ও ট্রেকিং করে আসছেন।
এ ছাড়াও আগামী দিনে শুধু বাংলাদেশ থেকে ভারতই নয় হেঁটে পুরো বিশ্ব ভ্রমণ করে এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।
হাইকার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ -এর পক্ষ থেকে সাইফুল ইসলাম শান্তর হাইকিং অভিযানের সাফল্য কামনা করছেন আনেকে।
মো. সাইফুল ইসলাম শান্ত দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম করোনা বেগম’র ২ ছেলেও ১ মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান।
%20PIC;-%20ATHLATIK%20SANTA%20INDIA-%2018.11.2022%20(1).jpg)
%20PIC;-%20ATHLATIK%20SANTA%20INDIA-%2018.11.2022%20(4).jpg)
%20PIC;-%20ATHLATIK%20SANTA%20INDIA-%2018.11.2022%20(3).jpg)