কুমিল্লার দেবীদ্বারে ক্ষুদ্র্ঋণ আর ফিক্সড ডিপোজিটের ফাঁদে ফেলে গ্রাহকের সঞ্চিত প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড নামে এক প্রতিষ্ঠানের শাখা কর্মকর্তা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জীবনের শেষ সম্ভল জমা রাখা গ্রাহকরা। অভিযুক্ত ঐ কর্মকর্তা আবদুস ছাত্তারের বাড়ি জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার লাড়ুচৌ গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, কথিত ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানটির কুমিল্লা জেলা শাখা পরিচালিত হতো দেবীদ্বার উপজেলার এগারগ্রাম বাজার থেকে। ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা, গ্রাহকের কাছ থেকে ফিক্সড ডিপোজিট ও ডিপিএস নামে টাকা সংগ্রহ করতো প্রতিষ্ঠানটি। ২ বছর আগে এগারগ্রাম বাজারে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শাখাটি হঠাৎ দুইদিন বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে কর্মকর্তা আবদুস ছাত্তার গ্রাহকদের সঞ্চিত সব টাকা নিয়ে স্বপরিবারে পালিয়ে গেছেন। এই সংবাদে শাখায় আসা গ্রাহকদের টাকা হারাবার হাহাকারে ভারি হয়ে উঠে এগারগ্রাম বাজারের পরিবেশ।
বিধবা খোসনেয়ারা বেগম ওই কর্মকর্তার পরামর্শে তিল তিল করে সঞ্চয় করা শেষ সম্বল দুই লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন কথিত ব্যাংকটিতে। টাকা হারিয়ে তিনি এখন পাগল প্রায়। কান্না জড়ানো কন্ঠে বলেন, ' আমার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে আমি কি করবো, কই যাবো। আমার সব শেষ হয়ে গেছে '।
বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুগসাইর গ্রামের তাজুল ইসলাম। পেনশনের দুই লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন প্রতিষ্ঠানটিতে। তিনি বলেন,' বিশ্বাস করে টাকা জমা রেখেছিলাম। এভাবে প্রতারিত হবো বুঝতেই পারিনি'।
এগার গ্রাম বাজারের ফার্মেসী ব্যবসায়ী আবদুল কাদির জানান, তিনি নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় দশ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। প্রতারকের ক্ষপ্পরে তার সব স্বপ্ন ধূলিস্যাত হয়ে গেছে'।
একই ভাবে এক থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা রেখে প্রতারিত হয়েছেন প্রায় ৬০ জন গ্রাহক।
শনিবার বিকেলে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে, ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক উন নবী তালুকদার বলেন, 'ঘটনাটি জানা ছিল না৷ প্রতারিত হওয়া গ্রাহকরা যদি আমাদের সহায়তা চান, আমরা সর্ব প্রকার সহায়তা করবো'।
