Tuesday, 23 January 2024

কোন ভাবেই থামছেনা দেবীদ্বারে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা

 


হামলাকারী ভোক্তভূগী সবাই আওয়ামীলীগের

অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছেনা- কারনে বাড়ছে সহিংসতা

কোন ভাবেই থামছেনা নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে রাজনৈতিক সহিংসতা যেন কোন ভাবেই কমছেনা। গত জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। কুমিল্লা- দেবীদ্বার আসনে স্বতন্ত্র পদেঈগলপ্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদের সমর্থক এবংনৌকাপ্রতীকের পরাজিত দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলে সমর্থকদের মধ্যে হামলা, বাড়িঘর ভাংচুর, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়াসহ নানা ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাঅধিক ঘটনা ঘটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দেবীদ্বারেঈগলনৌকাপ্রতীকের সমর্থকদের দ্বন্দ্বে সমর্থক আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। ওই হামলার ঘটনায় ঈগল সমর্থকদের হামলায় আহত যুবলীগ রাজামেহার ইউনিয়ন সভাপতি মানিক মিয়া (৪০) বাদী হয়ে এবং নৌকা সমর্থকদের হামলায় আহত ঈগল সমর্থক জহিরুল ইসলাম সরকার বাদী হয়ে পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সোমবার বিকেলে দেবীদ্বার গোমতী আবাসীক এলাকারঈগলসমর্থক জমি ব্যবসায়ি মো. জহিরুল ইসলাম সরকার(৪০) তার স্ত্রী স্থানীয় লাইফ কেয়ার হাসপাতালের নার্স মাহফুজা বেগম(৩২)কে মোটর সাইকেল বাসায় যাওয়ার পথে মোটর সাইকেল থেকে নামিয়েনৌকাসমর্থক গোমতী আবাসীক এলাকার মো. শাওন(২৭), মো. কাউছার(৩০), মো. সোহাগ(৩০), মো. মফিজ(২৮), মো. আরিফ(২৭) স্বামী স্ত্রী দুজনকে বেধরক মার ধর করে। স্থানীয়রা আহত জহিরুল ইসলামকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ওই ঘটনায় জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরো /৫জনকে অভিযুক্ত করে মো. জহিরুল ইসলাম সরকার বাদী হয়ে থানায় অভিযোগপত্র দায়ের করেন। জহিরুল জানায় তার উপর হামলাকারীদের দুজন সোহাগ কাউছার ঈগল প্রতীকের সমর্থক।

আহত মো. জহিরুল ইসলাম সরকার জানান, সে ঈগল প্রতীকের সমর্থক এবং তার সমর্থিত প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হন। তার পক্ষে কাজ করায় এবং তার পোষ্টার ব্যানার সাটানোর অপরাধে ওই এলাকায় বাস করতে হলে তাদের লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওরা আমাকে আমার স্ত্রীকে মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করে।

অভিযুক্ত সোহাগ  জানান, আমাদের /৫জনের নামেনৌকা- ‘ঈগলপ্রতীকের দ্বদ্ব দেখিয়ে যে মামলা করেছে তা ঠিক নয়। কারন অভিযুক্তদের তালিকায় আমি কাউছার দুজনই ঈগল প্রতীকের সমর্থক। জহিরুল জমির দালালী করে, তার কাছে জমির টাকা চাওয়াতে এখন সে রাজনীতি জড়িয়ে মামলা করে টাকা না দেয়ার ফন্দি করছে। সে এখানকার ভোটারও না। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামে। এখানে সে স্থানীয় িিকছু লোকজনের সাথে জমি বেচা-কেনার দালালী করে।

অপর ঘটনাটি ঘটে দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের মরিচা গ্রামে। গত রোববার ভেরে ফজরের নামাজ আদায়ে মসজিদে যাওয়ার সময় রাজামেহার ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক মো. মোফাজ্জল হোসেন মানিককে একদল সশস্ত্র মন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে, বাম হাত, বাম পাভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় মুসুল্লিরা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

আহত ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক মো. মোফাজ্জল হোসেন মানিক জানান, আমি নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছি। আমার প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় স্বতন্ত্র পদের ঈগল প্রতীকের সমর্থরা মসজিদের পাশের বাঁশ ঝারে পূর্ব থেকে উৎ পেতে ছিল। আমাকে দেখা মাত্রই তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অমানবিকভাবে মারধর করে। আমি বাঁচতে ওদের হাত-পা ধরা থেকে নানা ভাষায় অনুরোধ করেও রক্ষা পাইনি। তারা আমাকে মৃত: ভেবে অচেতন অবস্থায় ফেলে যায়। মুসুল্লিরা এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখনো আমার অভিযোগ আমলে নেয়নি।

ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে, এগুলোর মধ্যে কিছু জিডি, কিছু অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়ানৌকাপ্রতীকের সমর্থকদের করা ২টি ঈগলপ্রতীকের সমর্থকদের ৫টি অভিযোগসহ মোট ৭টি অভিযোগকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তবেনৌকাসমর্থক রাজামেহার ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক মো. মোফাজ্জল হোসেন মানিক এবংঈগলসমর্থক মো. জহিরুল ইসলাম সরকারের আজকের (২৩ জানুয়ারী) দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.