কুমিল্লার দেীবদ্বার উপজেলার মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীর শ্লীলতা হানির অভিযোগে কারাগারে আটক থাকা প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোকতল হোসেন’র নিঃশর্ত মুক্তির দাবী করে সমালোচনার মুখে পড়েছে উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষক সমিতি। পুলিশের তদন্তাধীন মামলাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মূলক আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে সমালোচনার মুখে পড়েন শিক্ষক নেতারা।
গত ১৫ মার্চ মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকতল হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় চলাকালে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্র-জনতা। পরে দিনভর বিদ্যালয়ে ভাংচুর, ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ৩০০ রাউন্ড গুলি করে। এতে প্রায় ২০জন গুলিবিদ্ধ সহ প্রায় অর্ধশত আহত হয়। রাতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় পর দিন ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ‘শ্লীলতাহানির’ অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ঘটনাটি নিয়ে পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছেন। কিন্তু উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে কোন তদন্ত কমিটি বা ছাত্রীর খোজ-খবর না নিয়ে উল্টো সেই প্রধান শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে শিক্ষক নেতারা। এমন সংবাদ ফেইজবুকে প্রচার হলে শিক্ষক নেতাদের কর্মকান্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে নেট দুনিয়ায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি বলেন, ঘটনার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও শিক্ষক নেতারা ওই ভূক্তভোগী ছাত্রীর খোজ-খবর না নিয়ে উল্টো প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়েছে, একটা সমাজের কত বড় অবক্ষয় হলে এটা সম্ভব। শিক্ষার্থীরা এ ধরনের শিক্ষকদেও কাছ থেকে কি শিক্ষা নিবে। এই শিক্ষক নেতাদের কারনে পুরো শিক্ষক সমাজ আজ কলোংকিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষক সমিতির চাপের মুখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে মানববন্ধনে আসতে হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের সন্তানের মত, কিন্তু ভুক্তভোগী ছাত্রীর পাশে না দাঁড়িয়ে ওই শিক্ষককে নির্দোশ দাবী করা ঠিক হয়নি। তাছাড়া, অনেক শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের বিষয়টি জানতোনা।
