Wednesday, 8 March 2023

নারী দিবসে: লিবিয়ায় গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করা সেই সাহসী নারী শাহিনুরের খোঁজ রাখেনা কেউ

 

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার:

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলির একটি দ্বীপে মাফিয়া চক্রের বন্দিদশা থেকে অপহৃত সন্তানকে মুক্ত করে আনা শাহীনুর বেগম নামে বাংলাদেশি এক মা’য়ের নিকট নারী দিবসে তার কাঙ্খীত চাওয়া পাওয়া কি আছে জানতে চাইলে সে, ক্ষোভের সাথে বলেন, নারীরা পুরুষ শাসিত সমাজে এখনো বন্দি। নারীরা শিক্ষা, চিকিৎসা, ক্রীড়া- সাহিত্য- সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও প্রশাসনে নারী জাগরন, নারী উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছেন। কর্মক্ষেত্রে নারী- পুরুষের বিভাজন থেকে সমানতালে নারী নেতৃত্ব এখন দৃশ্যমান। তারপরও আপনার ক্ষোভ কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,- 

আমার একমাত্র সন্তান ইয়াকুব হোসেনকে দালালচক্র মেরে সাগরে ফেলে দিয়েছে এমন সংবাদ আমি বিশ^াস করিনি। এর আগে আমি কোন সময় সাহস করে বাসে চড়ে ঢাকায়ও যাইনি। ঠিক তখন লিবিয়া প্রবাসী আমার স্বামীর পরামশের্^ ও তার সহযোগীতায় পাসপোর্ট করে, উড়ো জাহাজের টিকেট কিনে এক দুঃস্বাহসী অভিযানে প্রায় সোয়া ৭ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সুদুর লিবিয়ার ত্রিপলির দ্বীপে মাফিয়া চক্রের বন্দিদশা থেকে ছেলেকে মুক্ত করে এনেছি। আমার সন্তান লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে মাফিয়া চক্রের হাতে ছয় মাস ধরে বন্দি থাকা অবস্থায় উদ্ধার করে গত ২০২২ সালের ২১ মার্চ দেশে ফিরেছিলাম। 

যারা আমার সন্তানকে ভাল কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দিল তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন বা তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও বিচার পাইনি। আমার কথা কেউ আমলেও নেয়নি। সেই সমাজে নারী দিবসে আমার কাঙ্খীত চাওয়া পাওয়ার আর কি থাকতে পারে ?

বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে লিবিয়ার ত্রিপলী শহর থেকে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী আবুল খায়েরের স্ত্রী শাহীনুর বেগম(৪৬) নামে ওই দুঃস্বাহসী নারী লিবিয়ার দুঃসহ সময়ের গল্প শোনাচ্ছিলেন। ছেলেকে মাফিয়াদের হাত থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার পর আবারো আরেক অভিযানে গত পাঁচ মাস আগে লিবিয়ায় গেছেন তিনি। তবে এবার অভিযান আর কাউকে উদ্ধার করার নয়, এবার তার লক্ষ্য লিবিয়ায় মানবপাচারীকারী চক্রের মূল সিন্ডিকেটের রহস্য উদঘাটন করাসহ সাথে দু’বারে হার্ট এটাকে অসুস্থ স্বামীর সেবা যত্ম করে সারিয়ে তোলা। আগামী শনিবার (১১ মার্চ) তিনি দেশে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জেসমিন আরা ওই সাহসী নারী শাহিনুরের সাহসিকতার তারিফ করে বলেন, ‘আমরা মনে করি, তারিফই যথেষ্ট নয়। আমাদের প্রশাসন ও সরকারের উচিত হবে তাঁর মতো সাহসী নারীকে পুরস্কৃত করা। আমি তাকে পরবর্তী সময়ে আমার পক্ষ্য থেকে প্রয়োজনীয় সম্মানটুকু দেয়ার জন্য ব্যবস্থা করবো।’ 



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.