৭ মার্চকে ঘিরে দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগ ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। এ ঘোষণায় গত ২১ ফেব্রæয়ারির ন্যায় সংঘাতের আশংকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা ও হতাশা বিরাজ করছে।
নিজেদের অবস্থান এবং শক্তির অস্তিত্ব জানান দিতেই ৩ নেতা স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, আ’লীগ কুমিল্লা উত্তর জেলার সাধারন সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টার, আ’লীগ কুমিল্লা উত্তর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পৃথক কর্মসূচী পালন করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল সমর্থক উপজেলা আ’লীগ এর সাধারন সম্পাদক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন উপলক্ষে এবিএম গোলাম মোস্তফা পৌর মিলনায়তনে সকাল ১০টায় আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। অপর দিকে আওয়ামী লীগ কুমিল্লা উত্তর জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টারের সমর্থক আ’লীগ উপজেলা সভাপতি একেএম সফিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৭মার্চ সকাল ১০টায় ভ‚ঁইয়া কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে আলোচনা সভা করার ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সমর্থকগন একই দিন সকাল ১০টায় নবিয়াবাদস্থ ‘কুমিল্লা মডেল কলেজে’ আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। এসব গ্রæপের বাহিরে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহনে সম্বাব্য প্রার্থী আমেরিকা প্রবাসী শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএস শাখার সভাপতি ডাঃ ফেরদৌস খন্দকার’র সমর্থকরা দেবীদ্বার শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন’র কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। গ্রæপিং রাজনীতির বাহিরে থাকার ঘোষণায় অপর দেবীদ্বার পৌর আ’লীগের সভাপতি আবুল কাসেম একই দিন সকাল ১০টায় নিজ বাড়িতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
৭ মার্চ বিভক্ত অনুষ্ঠান ঘোষণায় গোলযোগের আশংকায় নিরাপত্তা জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত ২১ফেব্রæয়ারি সদ্য ঘোষিত আওয়ামী লীগ উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে এমপি গ্রæপের লোকজন ককটেল বিস্ফোরনসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইটপাটকেল ছুড়ে জেলার সাধারণ সম্পাদক রোশন সমর্থকদের উপরে হামলা, ফুলের তোড়া ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুরসহ ১০-১২ জনকে আহত করে।
স্থানীয় সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের অনুসারী উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল চৌধুরী বলেন, ২৭ বছর পর সম্মেলনে ৬ সদস্যের নাম ঘোষণায় সম্মেলন শেষ হয়, পরবর্তীতে ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা হলেও তা পারিবারিক ও ব্যক্তি সমর্থকদের নিয়ে গঠন করার অভিযোগে ওই কমিটি স্থগিত রয়েছে। তাই সভাপতি আমার সাথে পরামর্শ না করেই নিজ দায়িত্বে কার্যনির্বাহী কমিটির উদ্যোগে ৭ মার্চ পালনের ঘোষণা গ্রহনযোগ্য নয়। আমি এবিএম গোলাম মোস্তফা পৌর মিলনায়তনে ৭ মার্চের আলোচনার আয়োজন করেছি। জেলা উপজেলার সকল নেতা-কর্মীদের দাওয়াত করেছি। স্থানীয় এমপি, জেলার আ’লীগের সভাপতিসহ অনেক নেতাই থাকবেন।
আ’লীগ কুমিল্লা উত্তর জেলার সাধারন সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টার বলেন, সামনে নির্বাচন তাই দলীয় শৃংখলা না মেনে নিজেরা এমপি হয়ে যাবেন মনে করে যার যার অবস্থানে বিভাজন তৈরী করে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।
আ’লীগ কুমিল্লা উত্তর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সবাই যার যার মতো ৭ মার্চ পালন করবে তাই আমিও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে কুমিল্লা মডেল কলেজে থাকব।
এ ব্যপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ দিবস’ জাতীয় দিবস। সংঘাতের আশংকা দেখা দিলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেব।
