Monday, 16 January 2023

সীমানা জটিলতা নিরসন: অবশেষে ৩ দিন পর থানায় ডেকে নিয়ে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত আশিক হত্যায় মামলা নিল দেবীদ্বার থানা পুলিশ: বাপ বেটাসহ গ্রফতার -২


অবশেষে গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ৩ দিন পর আশিক হত্যা মামলা নিল দেবীদ্বার থানা পুলিশ। দেবীদ্বার উপজেলাধীন বাগুর শান্তিনগর সীমান্তে চোর সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে আশিকুর রহমান (১৯) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। এর দুই দিন বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শনিবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আশিকুর রহমান চান্দিনা উপজেলা সদরের মহারং এলাকার বাবুর্চি মিজানুর রহমানের ছেলে। পেশায় রিকশা চালক ছিলেন।

অবশেষে ওই ঘটনায় চান্দিনা পৌর এলাকার মহারং গ্রামের নিহতের মা আয়েশা বেগম(৩৭) বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এজ হারভ‚ক্ত ও ৮/১০ জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে ঘটনার ৩ দিন পর রোববার (১৫ জানুয়ারী) দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-১১/১১)।

মামলা দায়েরের পর দেবীদ্বার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) খাদেমুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজহার ভ‚ক্ত দেবীদ্বার উপজেলার ১৫নং বরকামতা ইউনিয়নের বাগুর শান্তিনগর এলাকার মো. সেকান্দর আলীর পুত্র ব্যবসায়ি মো. আবুল কালাম(৪৫) ও তার পুত্র মো. রিফাত হোসেন(২২)সহ দু’জনকে আটক করেছে।

মামলায় এজহারভ‚ক্ত আসামীরা হলেন,- বরুড়া উপজেলার বাঁশতলী গ্রামের মৃত হাজী লাল মিয়ার পুত্র মো. আবুল কালাম(৩৭), তিনি আলপাতা স্কুলের শিক্ষক এবং বাগুর শান্তিনগর এলাকার ব্যাবসায়ী। চান্দিনা পৌর এলাকার মহারং গ্রামের মৃত: কেরামত আলীর পুত্র আয়াত আলী(৬০)। দেবীদ্বার উপজেলান জাফরাবাদ গ্রামের মৃত লাল মিয়ার পুত্র মিজানুর রহমান ওরোফে চাউল মিজান(৫০), বাগুর শান্তি নগর এলাকার মো. সেকান্দর আলীর পুত্র ব্যবসায়ি মো. আবুল কালাম(৪৫) এবং আবুল কালামের পুত্র মো. রিফাত হোসেন(২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় চান্দিনা-বাগুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জেলার দেবীদ্বার উপজেলাধীন ১৫ নং বরকামতা ইউনিয়নের বাগুর গ্রামের শান্তিনগর সীমান্ত এলকার মোঃ মিজানুর রহমান এর দ্বিতল ভবনের ভাড়াটিয়া মো. আবুল কালামের একটি গোডাউনের সামনে কাগজ ও টিউবওয়েলের ওপরের অংশ চুরির অভিযোগে তাকে আটক করে ওই এলাকার ১৫-২০ জন লোক তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা পুলিশের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি না করে তাকে  উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এদিকে শনিবার (১৪ জানুয়ারী) ভোরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন পরিবারের সদস্যরা জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করে। রোববার বিকেলে চান্দিনা পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের মহারং গ্রামের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন। পরে পারিবারিক গোরস্তানে নিহত আশিকের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ঘটনাস্থলটি দেবীদ্বার থানা এবং চান্দিনা থানার মধ্যবর্তী হওয়ায় সীমানা জটিলতায় ৩ দিন মামলা হয়নি। পরে দেবীদ্বার থানা পুলিশ সীমানা জটিলতা নিরসনে ভিক্টিমের পরিবারকে ডেকে এনে রোববার রাতে মামলা নিয়েছেন।

উল্লেখ্য- কুমিল্লার দেবীদ্বার, চান্দিনা, মুরাদনগর উপজেলায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চোর ও ডাকাত সন্দেহে ৩টি পৃথক ঘটনায় ৪ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১টি ডাকাতি ও ২টি চুরির অভিযোগ রয়েছে। ৩ টি ঘটনার মধ্যে ২টি ঘটনাও গণপিটুনি নয় বলেও দাবী করছেন এলাকাবাসী। এসব ঘটনায় জেলা জুড়ে আতংক সৃষ্টির পাশাপাশি বিচার বহির্ভ‚ত হত্যা বলে দাবী করছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কেন্দ্রীয় কমিটির ডেপুটি গর্ভনর লুৎফর রেজা খোকন। আইন হাতে তুলে না নিতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছেন জেলা পুলিশ। ওই ৩ ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হলেও ২টি ঘটনায় মামলা হলেও ১টি ঘটনার মামলা সোমবার পর্যন্ত ঝুলে আছে।

নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ অতিক্রম করতে না করতেই এসব ঘটনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। গত ৮ জানুয়ারী কুমিল্লার চান্দিনায় চোর সন্দেহে ১জনকে পিটিয়ে হত্যার পর ১২ জানুয়ারী জেলার মুরাদনগরে মাইকে ডাকাতের গুজব প্রচার করে ২জন এবং একই রাতে চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চুরির অভিযোগে একজনকে পিটিয়ে আহতের পর ১৪ জানুয়ারী সকালে মৃত্যু ঘটে তার।

এ ব্যপারে সোমবার দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমল কৃষ্ণ ধর জানান, ঘটনাস্থল দেবীদ্বার একথা কেউ আমাদের জানায়নি। এরই মধ্যে ভিক্টিমের লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন করে ফেলে। ভিক্টিমের পরিবারও থানায় মামলা করতে আসেনি। পরে জানতে পেরে ভিক্টিমের পরিবারকে এনে মামলা নিয়েছি। আজ এজহারভ‚ক্ত দু’জন আটক করেছি, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার কোর্ট হাজতে চালান করব।



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.