এবিএম আতিকুর রহমান বাশার ঃ
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক এন. কে. নাতাশা। তিনি মাছরাঙা টেলিভিশনের জেষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপক ছিলেন। নাতাশা মরণখ্যাত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দির্ঘ রোগ ভোগের পর বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারী ২০২৩ইং) দিবাগত রাতে হার্ট এটাক করলে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং রাত ৩টায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগকরে বিদায় নিয়েছেন।
টেলিভিশনের পর্দায় এন কে নাতাশা একজন জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপক বা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পেলেও মূলত তিনি ছিলেন একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে (২২তম ব্যাচ) এমবিবিএস পাস করেন। পরবর্তিতে ডায়াবেটিস ও স্বাস্থ্য বিষয়ে পিএইচডি করেন। সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় বুলেটিনের সম্পাদক এবং এশিয়ান হেলথ লিটারেসি এসোসিয়েশনের কান্ট্রি ডিরেক্টরও ছিলেন তিনি।
তার স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয় ২০১৯ এর মাঝামাঝি সময়ে। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন দেশে এবং দেশের বাইরে। স্তন ক্যান্সারের সার্জারি হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এরপর গত বছর সেপ্টেম্বরে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেন। তিনি আবারো পাঠিকা হিসেবে সক্রিয় হয়ে উঠেন। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে আবারও তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। এর মধ্যেই গতকাল রাতে হার্ট অ্যাটাক করেন। রাত সাড়ে ৩ টায় তিনি মারা যান।
ক্যান্সারের কাছে হেরে গেলেও নাতাশা স্বাভাবিক জীবন কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। নাতাশা মরে গেলেও হেরে যায়নি, তিনি তার কষ্টগুলো বুকের অন্তরালে রেখে কর্মস্থলে সদা হাস্যোজ¦ল থাকতেন, ক্যান্সারে আক্রান্তদের উৎসাহ দিতেন। তিনি তার ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (এফবিতে) বলেছেন, “মরার আগে হারতে চাইনা, যদি বিছানায় পড়ে যাই ত পড়েই গেলাম। জীবনটা আমার- ক্যান্সারের নয়, কাজগুলোও আমার- অফিসের নয়, আপনাদের সাথে কথা বলার শান্তিটুকুও আমার- আপনারা দেখবেন কি দেখবেন না সেটা বিষয় না। কারোর হয়তো কাজে লাগবে, কারোর হয়তো মনোবল বাড়বে।”
এন কে নাতাশা’র গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের সম্ভ্রান্ত ভূঁইয়া বাড়ি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, প্রয়াত ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদের ছোট ভাই বিশিষ্ট রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম ভূঁইয়ার বড় মেয়ে। এন কে নাতাশা ১৯৭৭ইং সালে জন্মগ্রহন করেন। ডাঃ নারীতা নামে তার আরো একজন ছোট বোন আছেন। ডাঃ নারীতা এভার গ্রীণ হাসপাতালের চিকিৎসক।