Tuesday, 3 January 2023

দেবীদ্বারে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবায় ভাসমান শিশুর লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবায় ভাসমান অবস্থায় আলী ইমরান নামে ২ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় উপজেলার খাইয়ার গ্রামের জাকির মাষ্টারের বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বে একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেছে পুলিশ। 

নিহত আলী ইমরান, দেবীদ্বার উপজেলার বুড়িরপাড় গ্রামের আজিজ মিয়ার বাড়ির দুবাই প্রবাসী মোঃ জসীম উদ্দিনের পুত্র। 

মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে যেয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর নানার বাড়ি খাইয়ার গ্রামে ভাই বোন ও মায়ের সাথে শিশু আলী ইমরান বেড়াতে আসে। গত শনিবার ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে নিজ বাড়ি বুড়িরপাড় যাওয়ার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ১০টায় শিশুটি নিখোঁজ হয়। ওই ঘটনায় এলাকায় মাইকিং ও থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করার পর পুলিশ এলাকার প্রায় ৪০টি বাড়িতে চিরুনী অভিযান এবং ৩টি পুকুরে জাল ফেলে তল্লাসী চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পায়নি। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারী) ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়া নামে এক মুসুল্লি একটি নির্জন ডোবায় শিশুটিকে ভাসতে দেখে স্বজন ও পুলিশকে খবর দেন। 

নিহতের নানী পিয়ারা বেগম জানান, এ শিশুটির কোন শত্রু নেই, আমাদের সাথেও কারোর দন্দ্ব নেই। আমি তাকে আমার কোল থেকে নামিয়ে ঘরে যাই প্রায় ১০/১৫ মিনিট পরই সে নিখোঁজ হয়। ঘরের পাশের বিশাল পুকুর, অথচ বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি নির্জন ডোবায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। 

বাকরুদ্ধ শিশুর মা হোসনেয়ারা বেগমের কোন বক্তব্য দিতে চাননি, তবে তিনি বলেন, শনিবারে আমার ছেলে নিখোঁজ হয় আজ তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। 

দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমল কৃষ্ণ ধর জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলী ইমরানের মা’ হোসনেয়ারা বেগম থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করেন (ডায়েরী নং- ১৫৪৩)। তার পর থেকেই ওই এলাকার প্রায় ৪০ বাড়ির প্রতি ঘরে তল্লাসী চালিয়েছি, কয়েকটি পুকুরেও অনুসন্ধ্যান করেছি। নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবায় ভাসমান অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছি। হয়তো শীতের কারনে মরদেহটি পঁেচ-গলে যায়নি, তারপরও অপমৃত্যু মামলা দায়েরপূর্বক মৃত্যুর কারন নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছি। 


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.